লক্ষ্মী মন্তা
ভাবনায় সোনালী
সমাজ এমন মহিলাদের খুব পছন্দ করে,যারা মুখ বুজে সব রকমের অত্যাচার,অবিচার সহ্য করে যেতে পারেন। যারা তাদের সব রকমের স্বপ্ন,সম্ভাবনা,অধিকার গুলোকে নিঃশর্তে,বিনা প্রশ্নে উৎসর্গ করে দিতে পারেন, চারপাশের কিছু অপদার্থ দের পদার্থ বানানোর পরিকল্পনায়। যারা মানিয়ে নেওয়ার আফিম নেশায় ফুরিয়ে যাবার যন্ত্রণা কে ও অনুভব করতে ভুলে যান। সমাজ এই ধরনের মহিলাদেরকেই লক্ষ্মী মন্তা,মিষ্টি মেয়ে, আদর্শ বউ, ইত্যাদি উপাধিতে নির্দ্বিধায় ভূষিত করে যাদেরকে সব রকম ভাবে সমাজ শোষণ করতে, শাসন করতে,অবদমন করতে,বঞ্চিত করতে, প্রতারণা করতে সক্ষম হয়। কারণ তারা আঙুল তুলতে জানেনা, প্রশ্ন করতে দ্বিধা করে, কোন কিছুতেই না বলতে পারে না, নিজেদের জন্য বিশেষ কিছু ভাবতেও ভয় পায়, লজ্জা পায়। যাদের স্বপ্ন দেখার ইচ্ছে মরে গেছে। তাই তাকে বাস্তবায়িত করার সাহসও অবশিষ্ট নেই। যারা নিঃশেষ হয়ে গিয়েও আফসোস করাকে অপরাধ বলে মনে করে, চূড়ান্ত হীনমন্যতায় ভোগে। যারা স্বাধীনতা এবং স্বার্থপরতার মধ্যে পার্থক্য টাও বোঝে না, যারা ক্ষয়িষ্ণুতাকেইয় সহিষ্ণুতা বলে মনে করে। যারা মানিয়ে নেওয়ার , অপরিসীম ক্ষমতায় আপনজনদের দ্বারা রচিত হওয়া চক্রান্তের শিকার হয়েও অবিচল থাকে। তাই প্রয়োজনে সমাজকে সব রকম ভাবে রাগিয়ে দেওয়াও ভালো। কিন্তু ভুলেও ক্ষয় রোগের প্রতিযোগিতার প্রতিযোগী হয়ে এমন জীবন নির্বাচন করা উচিত নয়। যাতে শুধু সমাজ কারবারীদের ই লাভ হয়। কিন্তু মানবজমিন যা আবাদ করলে ফলতো সোনা,তা পরিত্যক্ত,অনুর্বর জমি হিসেবেই সারা জীবন ধরে আলোর আড়ালেই থেকে যায়।