ভাবনায় সোনালী
সম্প্রতি হাইকোর্ট বিবাহ বিচ্ছেদ মামলায় সন্তানের কাসটিডি নিয়ে যে নতুন রায়টি দিয়েছে সেটা সমর্থন করছি কিছুটা,কিন্তু সবটা নয়। কারণ একটা প্রশ্ন আছে। সেটা হল এখানে শিশু বলা হয়েছে। আমরা শিশু বা শৈশব দশা বলতে একটা বাচ্চার বা মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণত ১০ বছর বয়স অব্দি ধরি । ১২ বছর বয়স থেকে বালক বা বালিকা দশা হয়। এরপর ১৪-১৫ বছর বয়স মানে আমরা কিশোর বা কিশোরী বলে থাকি,১৪ -১৫ বছর বয়সের একটি মেয়ে ঋতু মতি হয়ে ওঠে। তাই তারা কিন্তু আর শিশু নয়। দু তিন বছর বাদে তারা ভোটাধিকার প্রাপ্ত নাগরিকের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হবে। কাজেই যেইসব বাচ্চাদের বয়স প্রায় ১৫ বছর হয়ে গেছে। আর কিছুদিন পরে ১৬ বছর হবে তারা কিন্তু এক বছর, দু বছর, পাঁচ বছর,বা ৫ মাসের শিশুর পর্যায়ের মধ্যে পড়ছে না সেটাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে।। আর তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় এই বয়সে উপনীত অনেক বালক বালিকার বাবারাই এখনো পর্যন্ত শৈশব দশা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। নিজেদের মায়ের কোল থেকে মাটিতে নেমে হাঁটি হাঁটি পা পা করে একা চলতে শিখে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন নি।।আর হয়তো তাদের এই অক্ষমতা জনিত কারণই অনেক শিশুদের জীবনে বিপর্যয় ঘনিয়ে আসার কারণ। যেটা তারা স্বীকার করেন না। কেচ্ছাচার করে নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।। তাই এইসব কিশোর কিশোরীদের ক্ষেত্রে বিষয়টা কিছুটা হলেও অন্যরকম। তাদের কাসটিডির সিদ্ধান্ত তাদের নিজেদের বক্তব্য,মতামত ভালো-মন্দের উপরে নির্ভর করবে।। তারা ফিডিং বোতলে দুধ খাওয়া বাচ্চা নয়।বিশেষ করে বর্তমান সমাজে ১৫-১৬ বছরের একটা মেধাবী প্রতিভাশালী ছেলে বা মেয়ে আমাদের সময় বা আমাদের বাবা ঠাকুমার সময়ের প্রায় কুড়ি বছরের ছেলে মেয়ের সমতুল্য, এটা ও মাথায় রাখতে হবে। তারা কোথায় থাকতে নিরাপদ বোধ করছে, কার সাথে সর্বক্ষণ থাকতে চাইছে,আর কাকে অতিথি হিসেবে জীবনে পেতে চাইছে তাদেরই কৃতকর্মের ফলশ্রুতি হিসেবে, ভিজিটেশন রাইটসের আওতায় পড়া ভিজিটার হিসেবে ? এই বিষয়গুলোও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। বাচ্চাটি জন্ম থেকে কার সান্নিধ্যে বেশি বড় হয়েছে। বিগত সাত আট বছর ধরে সে কার কাছে আছে, এবং সেখানে তার সামগ্রিক উন্নতি হয়েছে কিনা? যতই একপক্ষ অপরপক্ষ কে বাঁটুল দ্যা গ্রেট দিয়ে বার ডান্সার,পাব ডান্সার,মাদকাসক্ত আর আরও অনেক কিছু প্রমাণ করার চেষ্টা করে যাক না কেন এই সমস্ত বিষয় ও বিচার্য হবে।
এছাড়া একটা শিশু বা একটা বালক বা কিশোরী খামোখা তার মন না চাইলে অন্য একজন মহিলাকে বা অন্য একজন পুরুষকে মা বা বাবা ই বা ডাকতে যাবে কোন দুঃখে বা কিসের আনন্দে? তবে হ্যাঁ খালি বায়োলজিক্যাল হলেই যে মানুষের সাথে মানুষের টান বেশি থাকে এমনটা মনে হওয়ার কোন কারণ নেই। মানে কারণ নেই বলেই তো কত বাচ্চা বে ঘর হয়ে যায় প্রতিনিয়ত। তাই তাদের যদি কাউকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোন নির্দিষ্ট নামে ডাকতে ইচ্ছে হয় তারা ডাকবে। না হলে ডাকবে না । এই ভূ ভারতে তো আর নামের অভাব নেই। তবে কিছু কুচুটে মানুষের খপ্পরে পড়লে এই আশঙ্কা থেকেই যাবে যে মায়ের নাম ভুলে তারা হয়তো বাড়ির রাঁধুনিকেই মা নামে ডাকতে বাধ্য হবে।